কবর

যে মানুষ নিজের ভেতরেই একটা কবর বানিয়ে ফেলে, সে আর মৃত্যুকে ভয় পায় না। কারণ প্রতিদিনই সে একটু একটু করে নিজেকেই দাফন করে।
ব্যাখ্যা:
কিছু মানুষ বাইরে থেকে বেঁচে থাকে, কিন্তু ভেতর থেকে অনেক আগেই ভেঙে পড়ে। তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলে, হাসে, প্রয়োজনীয় কাজ করে, স্বাভাবিক জীবনযাপন করে—অথচ নিজের ভেতরে জমে থাকা কষ্ট, হতাশা আর না বলা কথাগুলো ধীরে ধীরে তাদের অনুভূতিগুলোকে নিঃশেষ করে দিতে থাকে।
একটি মানুষ যখন বারবার আঘাত পায়, বারবার বিশ্বাস করে ঠকে যায়, কিংবা নিজের কষ্ট কাউকে বলতে না পেরে সবকিছু নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখে, তখন একসময় তার ভেতরে একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়।
সে আর সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। আনন্দ পেলেও আনন্দ প্রকাশ করতে পারে না। কষ্ট পেলেও কাঁদতে পারে না। মানুষের ভিড়েও নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়।
এই অবস্থাটাকেই যেন নিজের ভেতরে একটি কবর বানিয়ে ফেলার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
সেখানে মানুষ তার স্বপ্নগুলোকে দাফন করে, কিছু সম্পর্ককে দাফন করে, কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষাকে দাফন করে। একসময় সে নিজের সেই পুরোনো সত্তাটাকেও হারিয়ে ফেলে—যে মানুষটি একসময় সহজে হাসত, বিশ্বাস করত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখত।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এমন মানুষদের অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝাই যায় না যে তারা কতটা ভেঙে পড়েছে। তারা হয়তো প্রতিদিন সবার সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু একা হলে নিজের সঙ্গে নিজেরই যুদ্ধ করে।
তাই কারও নীরবতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। যে মানুষটি খুব কম কথা বলে, সে হয়তো অনেক কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। যে মানুষটি হঠাৎ বদলে গেছে, তার জীবনে হয়তো এমন কিছু ঘটেছে যার কথা সে কাউকে বলতে পারেনি।
তবে যত গভীর অন্ধকারই হোক, সেখান থেকে ফিরে আসার পথ থাকা সম্ভব। নিজের কষ্টকে চেপে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজন হলে সাহায্য চাওয়া এবং নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।











কমেন্টস (0)