কবরে সবাই সমান। পার্থক্য শুধু এতটুকু, কে কতটা ভালো মানুষ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে গেল।

এটি আজিমপুর কবরস্থান।
একসময় যাদের নামের সঙ্গে ক্ষমতার পরিচয় ছিল, কারও সঙ্গে ডিগ্রি, কারও সঙ্গে পদ-পদবি, কারও সঙ্গে অর্থ আর প্রভাব, আজ তাদের সবার পরিচয় একটিই, তারা এই মাটির নিচে শুয়ে আছেন।
জীবিত অবস্থায় কেউ ছিলেন এমপি, কেউ মন্ত্রী, কেউ প্রশাসক, কেউ ছিলেন অঢেল সম্পদের মালিক। কেউ নিজের হাতে সাম্রাজ্য গড়েছেন, আর আজ সেই সাম্রাজ্যের ছায়ায় বসে জীবন কাটাচ্ছে তাঁর সন্তানরা। অথচ যিনি সাম্রাজ্য গড়েছিলেন, তাঁর নিজের জন্য পড়ে আছে মাত্র কয়েক হাত মাটি।
কী অদ্ভুত এই জীবন!
যে মানুষটি একদিন নিজের নামের পাশে কত পরিচয় বহন করেছেন, মৃত্যুর পর তাঁর নামটিও ধীরে ধীরে মুছে যায়। যে সম্পদকে নিজের ভেবেছেন, তা অন্যের হাতে চলে যায়। যে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী মনে করেছেন, তা একদিন অন্যের হাতে চলে যায়। শুধু কর্মগুলোই থেকে যায়, মানুষের স্মৃতিতে কিংবা সৃষ্টিকর্তার বিচারের অপেক্ষায়।
কবর তাই শুধু মৃত মানুষের ঠিকানা নয়, জীবিত মানুষের জন্যও এক নীরব পাঠশালা। এখানে এসে বোঝা যায়, পার্থক্যগুলো আমরা নিজেরাই বানাই, মৃত্যু এসে সব হিসাব এক করে দেয়।
তাই এত অহংকার কিসের?
অর্থের? ক্ষমতার? পদ-পদবির? নাকি সেই শরীরের, যেটি শেষ পর্যন্ত একমুঠো মাটির কাছেই ফিরে যাবে?
জীবন যদি শেষ পর্যন্ত মাটিতেই মিশে যায়, তবে বেঁচে থাকাটাই হোক মানুষের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার নাম। এমন কিছু রেখে যাই, যা সন্তানরা শুধু ভোগ করবে না, মানুষও মনে রাখবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ কত বড় বাড়ি বানিয়েছিল, কত টাকা রেখে গিয়েছিল, কিংবা কত ক্ষমতা ভোগ করেছিল, সেই হিসাব কবরের অন্ধকারে কোনো কাজে আসে না।
কবরে সবাই সমান। পার্থক্য শুধু এতটুকু, কে কতটা ভালো মানুষ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে গেল।











কমেন্টস (0)